সকাল ১০:৩০ | বৃহস্পতিবার | ২৭শে জুলাই, ২০১৭ ইং | ১২ই শ্রাবণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

‘তারকাদের এখন সবাই বেচার চেষ্টা করছে’

ছোট পর্দায় নাট্য পরিচালনার মাধ্যমে সবার মন জয় করে নিয়েছেন মাবরুর রশিদ বান্নাহ।ভিন্ন ঘরানার গল্পে নাটক তৈরি করে তিনি মিডিয়ার একজন পরিচিত মুখ। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা অবস্থায় ফটোগ্রাফি করেছেন, হয়েছিলেন পরিচালকের সহকারি। এরপর ২০১১ সালে তিনি প্রথম নাটক তৈরি করেন। সেই নাটকটি সবার প্রশংসা পায়। এরপর একে একে প্রায় ৮৫টি নাটক তিনি তৈরি করেছেন। সঙ্গে কথা হয় এই তরুণ গুণী নির্মাতার সঙ্গে। তিনি অকপটে বর্তমান টিভি মিডিয়ার বিভিন্ন অজানা কথা বলেন।সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাহমুদ উল্লাহ।

নাট্য পরিচালক হলেন কীভাবে?

আমি যখন ২০০৯ সালে ইউডাতে কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া নিয়ে পড়ি তখন শখের বসে ফটোগ্রাফি করতাম। মাইক্রো ছবি তুলতাম।পিপড়ার ছবি তুলতাম। সঙ্গে ইফতেখার আহমেদ ফাহমি ভাইয়ের অ্যাসিস্ট্যান্সি করতাম আর প্রচুর সিনেমা দেখতাম। দিনে দুই তিনটা সিনেমা না দেখলে ভাল লাগতো না। তখন মনে হতো আমাকে গল্প বলতে হবে। গল্প বলার মজা আবার মেকার না হলে পাওয়া যাবে না। এই চিন্তা থেকেই আমার পরিচালনায় আসা। তখন একটি পত্রিকার ক্যাম্পাস পাতার জন্য ছবিও তুলতাম। এরপর ২০১১ সালে আমি প্রথম নাটক তৈরি করি। এভাবেই এই সেক্টরে আসা।

এ পর্যন্ত কী কী কাজ করেছেন আপনি? আর এখন কী কাজ নিয়ে ব্যম্ত আছেন?

গত পাঁচ বছরে আমি ৮৫টি খণ্ড নাটক ও টেলিফিল্ম তৈরি করেছি। ধারাবহিক নাটক করেছি তিনটি। এখন ঈদের কাজগুলো শুরু হয়েছে, সেগুলো করছি। সম্প্রতি ভ্যালেন্টাইন্স ডেতে ক্লোজআপ কাছে আসার নাটক তৈরি করলাম। সেটা নিয়ে ভালো সাড়াও পেয়েছি।

সেই সময়ে আপনার প্রথম নাটক ফ্লাশব্যাক বেশ প্রশংসা পেয়েছিলো। সেই জনপ্রিয়তাই কি আজকের বান্নাহকে তৈরি করতে সাহায্য করেছে?

আমার প্রথম নাটক ফ্লাশব্যাক মিডিয়ায় প্রশংসিত হয় ফলে সবাই আমাকে প্রথম থেকেই জানতে পারে। তবে প্রথম নাটকে আমি সাফল্য না পেলেও আমি নাটক তৈরি করে যেতাম।

সেখানে স্টার কাস্ট হিসেবে কাকে নিয়েছিলেন আর্টিস্ট হিসেবে? সেই আর্টিস্ট কাস্টই কি নাটকটির জনপ্রিয়তার কারণ?

তিশা, আবুল হায়াত, আলী জাকের, কল্যাণ, লিমন, জাহেদুল ইসলাম অপু ছিলেন। না, আসলে আমার নাটকটির গল্পটাই এমন কাস্টিং ডিমান্ড করেছিলো বলে তাদেরকে নির্বাচন করেছিলাম।

এছাড়া আর কী কী করছেন এখন?

এছাড়াও আমি অনলাইনের জন্য থট ফিল্ম তৈরি করছি। সেগুলো করেও ভালো সাড়া পাচ্ছি।

থট ফিল্ম কী বুঝিয়ে বলুন।

থট ফিল্ম হচ্ছে যেই শর্ট ফিল্মটি শুধুমাত্র ইন্টাইরটেইনই করবে না দর্শককে এন্টারটেইনের পাশাপাশি ভাবনারও খোরাকও তৈরি করবে। আমারই এমন নাম দেয়া-থট ফিল্ম। এ পর্যন্ত তিনটি থট ফিল্ম তৈরি করেছি আমরা। সেকেন্ড চান্স ও শোধ এবং তিন নাম্বারটা এখন বানালাম নাম বিভেদ। এরমধ্যে একটির গল্প মেয়েদের পিরিয়ড ও একটি বাবার সঙ্গে ছেলের সম্পর্ক নিয়ে। এগুলোর প্রত্যেকটির মধ্যেই একটি করে মেসেজ থাকে, ফলে রেসপন্স বেশি পাচ্ছি। এর আরেকটি মজার দিক আছে।

আচ্ছা, সেটা কী বলুন?

এটি একদমই চ্যারিটি ঘরানায় আমরা তৈরি করছি। এখানে কলাকুশলী যারা কাজ করেন, যারা অভিনয় করেন, কেউই কোন টাকা নেন না। এখন আমি খুব ভালো সাড়া পাচ্ছি অনেকই ফ্রিতে এখানে কাজও করতে চাচ্ছেন। এখান থেকে আমরা যে টাকাটা আসবে তা চ্যারিটি হিসেবে বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজে দান করছি।

আচ্ছা, এই সেক্টরে যে এতদিন ধরে কাজ করছেন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী ছিল আপনার জন্য?

আমার বয়সটা কম ছিল। মানুষ পাত্তা দিত না। এখনও অনেকে আমার সম্পর্কে জেনে ফোনে কথা বলে যখন সরাসরি দেখা করতে আসে, তখন একটু আশ্চর্য হয়ে যায়, তাকিয়ে থাকে। মনে হয় যেন আমার বয়সটাকে মেনে নিতে তাদের একটু কষ্ট হয়। প্রথম বছর খানেক অনেক দৌঁড়িয়েছি। কেউ আমার নাটকে প্রডিউস করেনি। আমার বাবার টাকাতেই আমি প্রথম নাটক তৈরি করি। পরে দ্বিতীয় নাটকও সেই নাটকের লাভের টাকায় তৈরি করি। প্রডিউসার পাওয়াই প্রথম স্ট্রাগল ছিল। এই সেক্টরে নিজের সঙ্গে নিজের বোঝাপড়াটা অনেক জরুরি। টিকে থাকতে হবে। তাহলে সাফল্য আসবেই। প্রচুর ধৈর্য্য ধরতে হবে। কেন হচ্ছে না এমন ভাবা যাবে না। লেগে থাকতে হবে। এটা পুরোটাই ধৈর্য্য পরীক্ষার খেলা। যার যতো ধৈর্য্য তার ততো ভালো করার স্কোপ থাকে।

অনেক টিভি চ্যানেল পরিচালকদের টাকা আটকে রাখে। অনেক পরিচালকের সেই টাকা তুলতে স্ট্রাগল করতে হয়? আপনাকে কি এমন কোন সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছিলো?

দেখেন, এখন বেশিরভাগ টিভি চ্যানেল লাভে নেই। ফলে অনেকের টাকা আটকে যায়। এরজন্য এজেন্সি আছে। তারা টিভি চ্যানেলের হয়ে কাজ করে। আমি এজেন্সির সঙ্গেও কাজ করছি। হাতে গোনা চার পাঁচটি টিভি চ্যানেল লাভে রয়েছে। আমি এজেন্সি, ইন্ডিভিজুয়াল প্রডিউসার ও টিভি চ্যানেল, সবার সঙ্গেই কাজ করছি। আমার কোন সমস্যা হয় না। যদি এজেন্সি না থাকতো তাহলে অনেকগুলো চ্যানেল বন্ধ হয়ে যেতো।

সবাই এখন স্টারদের বিক্রি করতে ব্যস্ত। এই বিষয়ে আপনার অভিমত কী?

হ্যা, সবাই এখন তারকাদের বেচার চেষ্টা করছে। কিন্তু এতে সবাই সেই স্টারকেই চিনবে একজন ডিরেক্টারকে নয়। কিন্তু এটা ডিরেক্টার মিডিয়া। পরিচালকদের নিজেদের ব্র্যান্ড ইমেজ ফিরিয়ে নিয়ে আসতে হবে। শাকিব খানের নামে ফিল্ম যতদিন চলবে ততদিন আমাদের সিনেমা দাঁড়াবে না। আয়নাবাজীকে কেউ চঞ্চল চৌধুরীর সিনেমা বলে না। অমিতাভ রেজার সিনেমাই বলে। তাই আমি বলবো স্টার আর্টিস্ট না স্টার ডিরেক্টার লাগবে। চ্যানেল যদি একজন আর্টস্টকে চায়, তাহলেতো হবে না। একজন পরিচালকই তার গল্পের প্রয়োজনে আর্টিস্ট নির্বাচন করবে। নইলে সব গড়পড়তা হয়ে যাবে।

নতুন যারা টিভি নাটকের পরিচালক হতে যান তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?

নতুন গল্প বানাতে হবে। একদম ইউনিক কন্টেন্ট নিয়ে আসতে হবে। তবে মানুষ চিনবে। পরে পুরাতন কিছু বানানো যাবে। শুরুর দিকে নতুন গল্প নিয়েই কাজ করতে হবে। মার্কেটে এখন অনেক প্রতিযোগিতা। হাজারের উপর ডিরেক্টার আছে। এদের সবার কাছ থেকে নিজের আলাদা ইমেজ তৈরি করতে হলে নতুন গল্পের কোন বিকল্প নেই। আর ধৈর্য্য থাকতে হবে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

ফিল্ম বানাবো। গল্প রেডি আছে। কিন্তু মনমতো প্রডিউসার পাচ্ছি না। অনেক প্রডিউসারই আছে তারা নাচ গানের সিনেমা বানাতে বলেন। আমার তাতে কোন সমস্যা নেই। আমার নাটকেও ভেরিয়েশন আছে। আমি শুধুমাত্র রোমান্টিক ঘরানার মধ্যে পড়ে থাকিনি। পারিবারিক সমস্যাসহ একদম পিউর গ্রামের গল্পও বলেছি। একজন ডিরেক্টারকে সব কিছুই করতে হবে। কিন্তু প্রথম সিনেমা হিসেবে নাচ গানের সিনেমা এখন বানাতে চাই না।

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

Views All Time
Views All Time
105
Views Today
Views Today
1

Comments

comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» অবশেষে ১৪ বছর পর আলফাডাংগা উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের উদ্যোগ

» রুবেল শেখের চিকিৎসার ভার নিলেন জাপানী ফারুক।

» রেলওয়ে ষ্টেশনের নাম পরিবর্তনের দাবীতে কাশিয়ানীতে মানববন্ধন

» আসছে মনেম এর “অপূর্ণতা” শর্ট ফিল্ম

» আলফাডাঙ্গার কাঞ্চন একাডেমি তে ইফতার মাহফিল ও অভিভাবক সমাবেশ।

» আলফাডাঙ্গায় ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা

» মাহে রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় আলফাডাঙ্গায় র্যালী

» ৩য় বছরে মীরবাজার

» যক্ষ্মারোগ ও রোগীদের তথ্য সংরক্ষন বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে প্রশিক তৈরি বিষয়ক প্রশিক্ষক তৈরি

» আলফাডাঙ্গা অনলাইন প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

» উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তার বিদায় সংবর্ধনা

» গোপালগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার ল্যব লুট

» বন্দরে তিন ফার্মেসিকে জরিমানা

» ধেয়ে আসছে লোডশেডিং

» ইতিহাস গড়ার পথে বাহুবলী ২

উপদেষ্টা মন্ডলীর সভাপতি : ফারুক আহাম্মেদ (জাপানি ফারুক)
প্রধান উপদেষ্টা : আলহাজ কামরুল হক ভুইয়া
উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য : মো : কামরুজ্জামান কদর
প্রধান সম্পাদক : ইঞ্জিনিয়ার এম, এ, মালেক (জীবন)
সম্পাদক : মুজাহিদুল ইসলাম নাঈম
প্রকাশক : মাহির শাহরিয়ার শিশির
নির্বাহী সম্পাদক : মনেম শাহরিয়ার শাওন

কর্পোরেট অফিস ও বাণিজ্যিক কার্যালয় :
হাজি আসরাফ শপিং কমপ্লেক্স,
হেমায়েতপুর, সাভার, ঢাকা
ফোন : ০১৯১১৭১৭৫৯৯
ইমেইল : Info@Bartakantho.com
ফেসবুক পেজ : www.facebook.com/bartakantho
কারিগরি সসহায়তায় : ক্রিয়েশন আইটি বাংলাদেশ

Design & Devaloped BY Popular-IT.Com

,

‘তারকাদের এখন সবাই বেচার চেষ্টা করছে’

ছোট পর্দায় নাট্য পরিচালনার মাধ্যমে সবার মন জয় করে নিয়েছেন মাবরুর রশিদ বান্নাহ।ভিন্ন ঘরানার গল্পে নাটক তৈরি করে তিনি মিডিয়ার একজন পরিচিত মুখ। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা অবস্থায় ফটোগ্রাফি করেছেন, হয়েছিলেন পরিচালকের সহকারি। এরপর ২০১১ সালে তিনি প্রথম নাটক তৈরি করেন। সেই নাটকটি সবার প্রশংসা পায়। এরপর একে একে প্রায় ৮৫টি নাটক তিনি তৈরি করেছেন। সঙ্গে কথা হয় এই তরুণ গুণী নির্মাতার সঙ্গে। তিনি অকপটে বর্তমান টিভি মিডিয়ার বিভিন্ন অজানা কথা বলেন।সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাহমুদ উল্লাহ।

নাট্য পরিচালক হলেন কীভাবে?

আমি যখন ২০০৯ সালে ইউডাতে কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া নিয়ে পড়ি তখন শখের বসে ফটোগ্রাফি করতাম। মাইক্রো ছবি তুলতাম।পিপড়ার ছবি তুলতাম। সঙ্গে ইফতেখার আহমেদ ফাহমি ভাইয়ের অ্যাসিস্ট্যান্সি করতাম আর প্রচুর সিনেমা দেখতাম। দিনে দুই তিনটা সিনেমা না দেখলে ভাল লাগতো না। তখন মনে হতো আমাকে গল্প বলতে হবে। গল্প বলার মজা আবার মেকার না হলে পাওয়া যাবে না। এই চিন্তা থেকেই আমার পরিচালনায় আসা। তখন একটি পত্রিকার ক্যাম্পাস পাতার জন্য ছবিও তুলতাম। এরপর ২০১১ সালে আমি প্রথম নাটক তৈরি করি। এভাবেই এই সেক্টরে আসা।

এ পর্যন্ত কী কী কাজ করেছেন আপনি? আর এখন কী কাজ নিয়ে ব্যম্ত আছেন?

গত পাঁচ বছরে আমি ৮৫টি খণ্ড নাটক ও টেলিফিল্ম তৈরি করেছি। ধারাবহিক নাটক করেছি তিনটি। এখন ঈদের কাজগুলো শুরু হয়েছে, সেগুলো করছি। সম্প্রতি ভ্যালেন্টাইন্স ডেতে ক্লোজআপ কাছে আসার নাটক তৈরি করলাম। সেটা নিয়ে ভালো সাড়াও পেয়েছি।

সেই সময়ে আপনার প্রথম নাটক ফ্লাশব্যাক বেশ প্রশংসা পেয়েছিলো। সেই জনপ্রিয়তাই কি আজকের বান্নাহকে তৈরি করতে সাহায্য করেছে?

আমার প্রথম নাটক ফ্লাশব্যাক মিডিয়ায় প্রশংসিত হয় ফলে সবাই আমাকে প্রথম থেকেই জানতে পারে। তবে প্রথম নাটকে আমি সাফল্য না পেলেও আমি নাটক তৈরি করে যেতাম।

সেখানে স্টার কাস্ট হিসেবে কাকে নিয়েছিলেন আর্টিস্ট হিসেবে? সেই আর্টিস্ট কাস্টই কি নাটকটির জনপ্রিয়তার কারণ?

তিশা, আবুল হায়াত, আলী জাকের, কল্যাণ, লিমন, জাহেদুল ইসলাম অপু ছিলেন। না, আসলে আমার নাটকটির গল্পটাই এমন কাস্টিং ডিমান্ড করেছিলো বলে তাদেরকে নির্বাচন করেছিলাম।

এছাড়া আর কী কী করছেন এখন?

এছাড়াও আমি অনলাইনের জন্য থট ফিল্ম তৈরি করছি। সেগুলো করেও ভালো সাড়া পাচ্ছি।

থট ফিল্ম কী বুঝিয়ে বলুন।

থট ফিল্ম হচ্ছে যেই শর্ট ফিল্মটি শুধুমাত্র ইন্টাইরটেইনই করবে না দর্শককে এন্টারটেইনের পাশাপাশি ভাবনারও খোরাকও তৈরি করবে। আমারই এমন নাম দেয়া-থট ফিল্ম। এ পর্যন্ত তিনটি থট ফিল্ম তৈরি করেছি আমরা। সেকেন্ড চান্স ও শোধ এবং তিন নাম্বারটা এখন বানালাম নাম বিভেদ। এরমধ্যে একটির গল্প মেয়েদের পিরিয়ড ও একটি বাবার সঙ্গে ছেলের সম্পর্ক নিয়ে। এগুলোর প্রত্যেকটির মধ্যেই একটি করে মেসেজ থাকে, ফলে রেসপন্স বেশি পাচ্ছি। এর আরেকটি মজার দিক আছে।

আচ্ছা, সেটা কী বলুন?

এটি একদমই চ্যারিটি ঘরানায় আমরা তৈরি করছি। এখানে কলাকুশলী যারা কাজ করেন, যারা অভিনয় করেন, কেউই কোন টাকা নেন না। এখন আমি খুব ভালো সাড়া পাচ্ছি অনেকই ফ্রিতে এখানে কাজও করতে চাচ্ছেন। এখান থেকে আমরা যে টাকাটা আসবে তা চ্যারিটি হিসেবে বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজে দান করছি।

আচ্ছা, এই সেক্টরে যে এতদিন ধরে কাজ করছেন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী ছিল আপনার জন্য?

আমার বয়সটা কম ছিল। মানুষ পাত্তা দিত না। এখনও অনেকে আমার সম্পর্কে জেনে ফোনে কথা বলে যখন সরাসরি দেখা করতে আসে, তখন একটু আশ্চর্য হয়ে যায়, তাকিয়ে থাকে। মনে হয় যেন আমার বয়সটাকে মেনে নিতে তাদের একটু কষ্ট হয়। প্রথম বছর খানেক অনেক দৌঁড়িয়েছি। কেউ আমার নাটকে প্রডিউস করেনি। আমার বাবার টাকাতেই আমি প্রথম নাটক তৈরি করি। পরে দ্বিতীয় নাটকও সেই নাটকের লাভের টাকায় তৈরি করি। প্রডিউসার পাওয়াই প্রথম স্ট্রাগল ছিল। এই সেক্টরে নিজের সঙ্গে নিজের বোঝাপড়াটা অনেক জরুরি। টিকে থাকতে হবে। তাহলে সাফল্য আসবেই। প্রচুর ধৈর্য্য ধরতে হবে। কেন হচ্ছে না এমন ভাবা যাবে না। লেগে থাকতে হবে। এটা পুরোটাই ধৈর্য্য পরীক্ষার খেলা। যার যতো ধৈর্য্য তার ততো ভালো করার স্কোপ থাকে।

অনেক টিভি চ্যানেল পরিচালকদের টাকা আটকে রাখে। অনেক পরিচালকের সেই টাকা তুলতে স্ট্রাগল করতে হয়? আপনাকে কি এমন কোন সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছিলো?

দেখেন, এখন বেশিরভাগ টিভি চ্যানেল লাভে নেই। ফলে অনেকের টাকা আটকে যায়। এরজন্য এজেন্সি আছে। তারা টিভি চ্যানেলের হয়ে কাজ করে। আমি এজেন্সির সঙ্গেও কাজ করছি। হাতে গোনা চার পাঁচটি টিভি চ্যানেল লাভে রয়েছে। আমি এজেন্সি, ইন্ডিভিজুয়াল প্রডিউসার ও টিভি চ্যানেল, সবার সঙ্গেই কাজ করছি। আমার কোন সমস্যা হয় না। যদি এজেন্সি না থাকতো তাহলে অনেকগুলো চ্যানেল বন্ধ হয়ে যেতো।

সবাই এখন স্টারদের বিক্রি করতে ব্যস্ত। এই বিষয়ে আপনার অভিমত কী?

হ্যা, সবাই এখন তারকাদের বেচার চেষ্টা করছে। কিন্তু এতে সবাই সেই স্টারকেই চিনবে একজন ডিরেক্টারকে নয়। কিন্তু এটা ডিরেক্টার মিডিয়া। পরিচালকদের নিজেদের ব্র্যান্ড ইমেজ ফিরিয়ে নিয়ে আসতে হবে। শাকিব খানের নামে ফিল্ম যতদিন চলবে ততদিন আমাদের সিনেমা দাঁড়াবে না। আয়নাবাজীকে কেউ চঞ্চল চৌধুরীর সিনেমা বলে না। অমিতাভ রেজার সিনেমাই বলে। তাই আমি বলবো স্টার আর্টিস্ট না স্টার ডিরেক্টার লাগবে। চ্যানেল যদি একজন আর্টস্টকে চায়, তাহলেতো হবে না। একজন পরিচালকই তার গল্পের প্রয়োজনে আর্টিস্ট নির্বাচন করবে। নইলে সব গড়পড়তা হয়ে যাবে।

নতুন যারা টিভি নাটকের পরিচালক হতে যান তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?

নতুন গল্প বানাতে হবে। একদম ইউনিক কন্টেন্ট নিয়ে আসতে হবে। তবে মানুষ চিনবে। পরে পুরাতন কিছু বানানো যাবে। শুরুর দিকে নতুন গল্প নিয়েই কাজ করতে হবে। মার্কেটে এখন অনেক প্রতিযোগিতা। হাজারের উপর ডিরেক্টার আছে। এদের সবার কাছ থেকে নিজের আলাদা ইমেজ তৈরি করতে হলে নতুন গল্পের কোন বিকল্প নেই। আর ধৈর্য্য থাকতে হবে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

ফিল্ম বানাবো। গল্প রেডি আছে। কিন্তু মনমতো প্রডিউসার পাচ্ছি না। অনেক প্রডিউসারই আছে তারা নাচ গানের সিনেমা বানাতে বলেন। আমার তাতে কোন সমস্যা নেই। আমার নাটকেও ভেরিয়েশন আছে। আমি শুধুমাত্র রোমান্টিক ঘরানার মধ্যে পড়ে থাকিনি। পারিবারিক সমস্যাসহ একদম পিউর গ্রামের গল্পও বলেছি। একজন ডিরেক্টারকে সব কিছুই করতে হবে। কিন্তু প্রথম সিনেমা হিসেবে নাচ গানের সিনেমা এখন বানাতে চাই না।

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

Views All Time
Views All Time
105
Views Today
Views Today
1

Comments

comments

সর্বশেষ আপডেট



এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



উপদেষ্টা মন্ডলীর সভাপতি : ফারুক আহাম্মেদ (জাপানি ফারুক)
প্রধান উপদেষ্টা : আলহাজ কামরুল হক ভুইয়া
উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য : মো : কামরুজ্জামান কদর
প্রধান সম্পাদক : ইঞ্জিনিয়ার এম, এ, মালেক (জীবন)
সম্পাদক : মুজাহিদুল ইসলাম নাঈম
প্রকাশক : মাহির শাহরিয়ার শিশির
নির্বাহী সম্পাদক : মনেম শাহরিয়ার শাওন

কর্পোরেট অফিস ও বাণিজ্যিক কার্যালয় :
হাজি আসরাফ শপিং কমপ্লেক্স,
হেমায়েতপুর, সাভার, ঢাকা
ফোন : ০১৯১১৭১৭৫৯৯
ইমেইল : Info@Bartakantho.com
ফেসবুক পেজ : www.facebook.com/bartakantho
কারিগরি সসহায়তায় : ক্রিয়েশন আইটি বাংলাদেশ

Design & Devaloped BY Popular-IT.Com