রাত ৯:৪৬ | বৃহস্পতিবার | ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

তথ্য-প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াবে সরকার

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে যে সম্ভাবনা আছে তা কাজে লাগাতে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলে আশ্বস্ত করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেন, যদি মনে হয় তথ্য-প্রযুক্তি খাত আগামী ৫-১০ বছর পরে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে চাঙ্গা করতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে তাহলে সব ধরনের প্রণোদনা দেওয়া হবে। এ খাতে শুধু প্রণোদনা নয়, সরকার বিনিয়োগও করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গতকাল সোমবার বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলে তথ্য-প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তা, আইসিটি মন্ত্রণালয় ও এনবিআরের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এক প্রাক-বাজেট আলোচনায় প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় তথ্য-প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে নানা ধরনের বাধা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়।

প্রাক-বাজেট আলোচনায় বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে রপ্তানির ওপর ২০ শতাংশ নগদ সহায়তা, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা, আইসিটির কিছু কিছু বিষয়ের নতুন করে সংজ্ঞায়ন, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম তৈরিতে বিভিন্ন স্তরে কর নেওয়া থেকে বিরত থাকা, সফটওয়্যার আমদানির ওপর ৫ শতাংশ কর মওকুফ, ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর মূসক প্রত্যাহার, ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের ওপর ১৫ শতাংশ হারে আরোপিত ভ্যাট মওকুফ, ফাইবার অপটিক কেবলের ওপর আরোপিত ৩৭.৮৩ শতাংশ হারে করারোপ যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে আসা ইত্যাদি।

এসব প্রস্তাব বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এনবিআরের কাজগুলোকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে যাতে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়ে বরং সহযোগিতা পায়। কাস্টমস কর্মকর্তারা কী ধরনের স্বৈরাচারী আচরণ করেন তা আমার জানা আছে। আমার জীবনেরই এ ধরনের একটা ঘটনা ঘটেছে। তখন মনে হয়েছে এরা এরশাদের চেয়েও বেশি স্বৈরাচার। তারা না বুঝে অনেক কিছু করার চেষ্টা করে থাকে। এ জন্য আইসিটি মন্ত্রণালয় ও আইটি খাতের অভিজ্ঞ উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে এনবিআরের কর্মকর্তাদের তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদানের প্রস্তাব করেন প্রতিমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহেমদ পলক বলেন, ‘সারা বিশ্বের সেরা ১০টি বড় কম্পানির তালিকায় আটটি রয়েছে প্রযুক্তি খাতের। এ খাতের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে কোনো মতৈক্য থাকার সুযোগ নেই।

জুনাইদ আহেমদ পলক বলেন, ‘আমাদের দেশে এখন পর্যন্ত একটি কম্পানিও নেই যারা মোবাইল ফোন ও কম্পিউটার ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে জড়িত। কিন্তু আমরা স্বপ্ন দেখছি ভবিষ্যতে গার্মেন্ট খাতের পর তথ্য-প্রযুক্তি খাতকে প্রতিষ্ঠা করার। এ জন্য আমাদের অবশ্যই কিছু সহযোগিতা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে করতে হবে। না হলে পাঁচ বিলিয়ন রপ্তানির যে লক্ষ্যমাত্রা সেটাতে আমরা পৌঁছাতে পারব না। ’

উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন প্রস্তাব ও সমালোচনার জবাবে এনবিআরের সদস্য (ভ্যাট ও নীতি) জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘আমাদের কর্মকর্তাদের আইটি বিষয়ে জ্ঞানের স্বল্পতা রয়েছে, এটা স্বীকার করতেই হবে। এ জন্য আমরা চাই আইসিটি মন্ত্রণালয় আমাদের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে। যাতে করে তারা এ খাতের উদ্যোক্তাদের বিষয়গুলো ভালোভাবে বুঝতে পারে। ’
জুনাইদ আহেমদ পলক বলেন, ভারত বা অন্যান্য দেশে এ খাতের উদ্যোক্তারা একটি কম্পানি শুরু করতে গেলে সরকার যেভাবে সহযোগিতা করে সেই নীতি অনুসরণ করতে হবে। তাহলে তরুণ উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসতে পারবে।

অনুষ্ঠানে বেসিসের সভাপতি মোস্তাফা জব্বার বলেন, আইসিটি খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য ২০ শতাংশ নগদ প্রণোদনার প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ তৈরির জন্য আইসিটিসংক্রান্ত আইন, নীতিমালা ও নির্দেশনাবলি তৈরি হচ্ছে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় সরকার ২০২১ সালের মধ্যে আইসিটি খাতে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা পাঁচ বিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করেছে। যেখানে প্রায় ২০ লাখ কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য এনবিআরকে এসব লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করতে হবে।

Comments

comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» মিরপুরে ৩টি ফার্মেসি সিলগালা

» আলফাডাঙ্গায় ছাত্রলীগ নেতা আশিকের মাগফেরাত কামনায় দোয়া

» মানবিক সাহায্যের আবেদন

» মাইজদীতে লাইসেন্স বিহীন ফার্মেসিতে জরিমানা ও মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ জব্দ

» আলফাডাঙ্গায় সরকারের সাফল্য নিয়ে আলোচনা সভা

» রোহিঙ্গাদের হত্যার প্রতিবাদে আলফাডাঙ্গায় বিক্ষোভ

» আলফাডাঙ্গায় ইয়াবাসহ চার যুবক আটক

» ৭ ঘন্টা ধরে বিদ্যুৎ বিহীন আলফাডাংগাবাসী অন্ধকারে ও গরমে অতিষ্ঠ।

» শিগগির চালু হচ্ছে এভিয়েশন বিশ্ববিদ্যালয়: মেনন

» আলফাডাঙ্গার দলিল জালিয়াত চক্রের হোতা মোক্তার হোসেন,

» আলফাডাঙ্গা উপজেলার উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা জনাব মোঃ আজহারুল ইসলাম এর বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে।

» শ্রীবরদীতে ভেজাল ঔষুধ জব্দ ॥ ৪ ফার্মেসীর জরিমানা

» সাংসদ আব্দুর রহমানের একান্ত প্রচেস্টায় জাতীয়করণ হলো আলফাডাঙ্গা এ জেড পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়

» ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে আলফাডাঙ্গায় মানববন্ধন

» কাশিয়ানীতে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে দোয়া ও কাঙ্গালী ভোজ।

সদস্য মণ্ডলী : –

উপদেষ্টা : ডা: রফিকুল ইসলাম বিজলী
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুজাহিদুল ইসলাম নাঈম
সম্পাদক ও প্রকাশক : মাহির শাহরিয়ার শিশির
বার্তা সম্পাদক : সাহিদুল ইসলাম পলাশ ভুইয়া
নির্বাহী সম্পাদক : মনেম শাহরিয়ার শাওন

যোগাযোগ : –

সম্পাদকীয় কার্যালয় : ২৩/৩, তোপখানা রোড,
৪র্থ তালা, (পাক্ষিক অনিয়ম এর পাশে) ঢাকা-১০০০
09602111463, 01911717599, 01611354077
fb.com/bartakantho | Info@Bartakantho.com
প্রকাশনা : সানশাইন ক্রিয়েটিভ মিডিয়া লিমিটেড

Design & Devaloped BY Creation IT BD Limited

রাত ৯:৪৬, ,

তথ্য-প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াবে সরকার

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে যে সম্ভাবনা আছে তা কাজে লাগাতে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলে আশ্বস্ত করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেন, যদি মনে হয় তথ্য-প্রযুক্তি খাত আগামী ৫-১০ বছর পরে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে চাঙ্গা করতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে তাহলে সব ধরনের প্রণোদনা দেওয়া হবে। এ খাতে শুধু প্রণোদনা নয়, সরকার বিনিয়োগও করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গতকাল সোমবার বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলে তথ্য-প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তা, আইসিটি মন্ত্রণালয় ও এনবিআরের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এক প্রাক-বাজেট আলোচনায় প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় তথ্য-প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে নানা ধরনের বাধা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়।

প্রাক-বাজেট আলোচনায় বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে রপ্তানির ওপর ২০ শতাংশ নগদ সহায়তা, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা, আইসিটির কিছু কিছু বিষয়ের নতুন করে সংজ্ঞায়ন, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম তৈরিতে বিভিন্ন স্তরে কর নেওয়া থেকে বিরত থাকা, সফটওয়্যার আমদানির ওপর ৫ শতাংশ কর মওকুফ, ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর মূসক প্রত্যাহার, ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের ওপর ১৫ শতাংশ হারে আরোপিত ভ্যাট মওকুফ, ফাইবার অপটিক কেবলের ওপর আরোপিত ৩৭.৮৩ শতাংশ হারে করারোপ যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে আসা ইত্যাদি।

এসব প্রস্তাব বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এনবিআরের কাজগুলোকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে যাতে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়ে বরং সহযোগিতা পায়। কাস্টমস কর্মকর্তারা কী ধরনের স্বৈরাচারী আচরণ করেন তা আমার জানা আছে। আমার জীবনেরই এ ধরনের একটা ঘটনা ঘটেছে। তখন মনে হয়েছে এরা এরশাদের চেয়েও বেশি স্বৈরাচার। তারা না বুঝে অনেক কিছু করার চেষ্টা করে থাকে। এ জন্য আইসিটি মন্ত্রণালয় ও আইটি খাতের অভিজ্ঞ উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে এনবিআরের কর্মকর্তাদের তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদানের প্রস্তাব করেন প্রতিমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহেমদ পলক বলেন, ‘সারা বিশ্বের সেরা ১০টি বড় কম্পানির তালিকায় আটটি রয়েছে প্রযুক্তি খাতের। এ খাতের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে কোনো মতৈক্য থাকার সুযোগ নেই।

জুনাইদ আহেমদ পলক বলেন, ‘আমাদের দেশে এখন পর্যন্ত একটি কম্পানিও নেই যারা মোবাইল ফোন ও কম্পিউটার ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে জড়িত। কিন্তু আমরা স্বপ্ন দেখছি ভবিষ্যতে গার্মেন্ট খাতের পর তথ্য-প্রযুক্তি খাতকে প্রতিষ্ঠা করার। এ জন্য আমাদের অবশ্যই কিছু সহযোগিতা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে করতে হবে। না হলে পাঁচ বিলিয়ন রপ্তানির যে লক্ষ্যমাত্রা সেটাতে আমরা পৌঁছাতে পারব না। ’

উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন প্রস্তাব ও সমালোচনার জবাবে এনবিআরের সদস্য (ভ্যাট ও নীতি) জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘আমাদের কর্মকর্তাদের আইটি বিষয়ে জ্ঞানের স্বল্পতা রয়েছে, এটা স্বীকার করতেই হবে। এ জন্য আমরা চাই আইসিটি মন্ত্রণালয় আমাদের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে। যাতে করে তারা এ খাতের উদ্যোক্তাদের বিষয়গুলো ভালোভাবে বুঝতে পারে। ’
জুনাইদ আহেমদ পলক বলেন, ভারত বা অন্যান্য দেশে এ খাতের উদ্যোক্তারা একটি কম্পানি শুরু করতে গেলে সরকার যেভাবে সহযোগিতা করে সেই নীতি অনুসরণ করতে হবে। তাহলে তরুণ উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসতে পারবে।

অনুষ্ঠানে বেসিসের সভাপতি মোস্তাফা জব্বার বলেন, আইসিটি খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য ২০ শতাংশ নগদ প্রণোদনার প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ তৈরির জন্য আইসিটিসংক্রান্ত আইন, নীতিমালা ও নির্দেশনাবলি তৈরি হচ্ছে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় সরকার ২০২১ সালের মধ্যে আইসিটি খাতে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা পাঁচ বিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করেছে। যেখানে প্রায় ২০ লাখ কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য এনবিআরকে এসব লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করতে হবে।

Comments

comments

সর্বশেষ আপডেট



এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সদস্য মণ্ডলী : –

উপদেষ্টা : ডা: রফিকুল ইসলাম বিজলী
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুজাহিদুল ইসলাম নাঈম
সম্পাদক ও প্রকাশক : মাহির শাহরিয়ার শিশির
বার্তা সম্পাদক : সাহিদুল ইসলাম পলাশ ভুইয়া
নির্বাহী সম্পাদক : মনেম শাহরিয়ার শাওন

যোগাযোগ : –

সম্পাদকীয় কার্যালয় : ২৩/৩, তোপখানা রোড,
৪র্থ তালা, (পাক্ষিক অনিয়ম এর পাশে) ঢাকা-১০০০
09602111463, 01911717599, 01611354077
fb.com/bartakantho | Info@Bartakantho.com
প্রকাশনা : সানশাইন ক্রিয়েটিভ মিডিয়া লিমিটেড

Design & Devaloped BY Creation IT BD Limited