সকাল ১০:৩৭ | বৃহস্পতিবার | ২৭শে জুলাই, ২০১৭ ইং | ১২ই শ্রাবণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

টাঙ্গাইলে যুবলীগের দুই

টাঙ্গাইলে যুবলীগের দুই কর্মী হত্যা করে তাদের মরদেহ গুমের ঘটনার রহস্য উন্মোচিত হয়েছে।

টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সাংসদ আমানুর রহমান খান রানার ঘনিষ্ঠ সহযোগী যুবলীগ নেতা ও তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোর্শেদ তার দল নিয়ে এই হত্যাকান্ড ঘটিয়ে মরদেহ গুম করেন।

ঘটনার প্রায় পাঁচ বছর পর এ মামলায় গ্রেফতার হওয়া দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এই তথ্য জানিয়েছেন।

এই দুই আসামির মধ্যে শাহাদত হোসেন সাধু (৪৫) বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) ও খন্দকার জাহিদুল ইসলাম (৩৮) শনিবার (১১ মার্চ) টাঙ্গাইল জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

তাদের দুই জনের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রুপম কান্তি দাশ।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ১৬ জুলাই সকালে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের যুবলীগ কর্মী মোহাম্মদ শামীম (২৮) ও মামুন মিয়া (২৫) বাড়ি থেকে টাঙ্গাইল শহরের উদ্দেশ্যে বের হন। এরপর থেকে তারা নিখোঁজ হন।

Screenshot_80

এ ব্যাপারে শামীমের মা আছিয়া খাতুন বাদি হয়ে পরদিন ১৭ জুলাই টাঙ্গাইল সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

এরপর নিখোঁজ মামুনের বাবা আব্দুল আজিজ বাদি হয়ে ২০১৩ সালের ৯ জুলাই টাঙ্গাইল বিচারিক হাকিম আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন।

মামলায় মোর্শেদসহ তার দলের ১৩ জনকে আসামি করা হয়। পরবর্তীতে মামলার তদন্তের দায়িত্ব টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অশোক কুমার সিংহ বলেন, এ মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি খন্দকার জাহিদুল ইসলাম ও শাহাদত হোসেনকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদকালে তারা এ হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে দুই জনেই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

আদালত সূত্র জানায়, জাহিদুল ও শাহাদত জবানবন্দিতে জানিয়েছেন মামুন ও শামীম হত্যার কিছুদিন আগে সাংসদ আমানুর রহমান খান রানার ভাই জাহিদুর রহমান খান কাকন তার অফিসে মোর্শেদ, স্বপন, জাহিদ, সবুজসহ কয়েকজনকে ডেকে নেন।

পরে, জাহিদুর রহমান খান কাকন তাদের পাঁচ লাখ টাকা ও একটি পিস্তল দিয়ে বেতকা কলেজগেট এলাকার জেলা যুবদলের সভাপতি খন্দকার আহমেদুল হক শাতিলকে হত্যার ব্যবস্থা করতে বলেন। হত্যার কাজে প্রয়োজনীয় আরও টাকা ও অস্ত্র মোর্শেদকে দিতে বলেন।

কাকননের কাছ থেকে মোর্শেদ দায়িত্ব পেয়ে মামুন ও শামীমকে ডেকে আনেন শাতিলকে হত্যার জন্য।

এই হত্যার জন্য দুইটি মোটরসাইকেল, সাত লাখ টাকা ও দুইটি রিভলবার (একটি জাহিদুরের দেওয়া) মামুন ও শামীমকে দেন। কিন্তু তারা হত্যা না করায় পরবর্তীতে তাদের দুই জনকেই মোর্শেদের অফিসে ডেকে এনে হত্যা করে লাশ বাসাইলের নথখোলায় নিয়ে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়।

Views All Time
Views All Time
99
Views Today
Views Today
4

Comments

comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» অবশেষে ১৪ বছর পর আলফাডাংগা উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের উদ্যোগ

» রুবেল শেখের চিকিৎসার ভার নিলেন জাপানী ফারুক।

» রেলওয়ে ষ্টেশনের নাম পরিবর্তনের দাবীতে কাশিয়ানীতে মানববন্ধন

» আসছে মনেম এর “অপূর্ণতা” শর্ট ফিল্ম

» আলফাডাঙ্গার কাঞ্চন একাডেমি তে ইফতার মাহফিল ও অভিভাবক সমাবেশ।

» আলফাডাঙ্গায় ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা

» মাহে রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় আলফাডাঙ্গায় র্যালী

» ৩য় বছরে মীরবাজার

» যক্ষ্মারোগ ও রোগীদের তথ্য সংরক্ষন বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে প্রশিক তৈরি বিষয়ক প্রশিক্ষক তৈরি

» আলফাডাঙ্গা অনলাইন প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

» উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তার বিদায় সংবর্ধনা

» গোপালগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার ল্যব লুট

» বন্দরে তিন ফার্মেসিকে জরিমানা

» ধেয়ে আসছে লোডশেডিং

» ইতিহাস গড়ার পথে বাহুবলী ২

উপদেষ্টা মন্ডলীর সভাপতি : ফারুক আহাম্মেদ (জাপানি ফারুক)
প্রধান উপদেষ্টা : আলহাজ কামরুল হক ভুইয়া
উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য : মো : কামরুজ্জামান কদর
প্রধান সম্পাদক : ইঞ্জিনিয়ার এম, এ, মালেক (জীবন)
সম্পাদক : মুজাহিদুল ইসলাম নাঈম
প্রকাশক : মাহির শাহরিয়ার শিশির
নির্বাহী সম্পাদক : মনেম শাহরিয়ার শাওন

কর্পোরেট অফিস ও বাণিজ্যিক কার্যালয় :
হাজি আসরাফ শপিং কমপ্লেক্স,
হেমায়েতপুর, সাভার, ঢাকা
ফোন : ০১৯১১৭১৭৫৯৯
ইমেইল : Info@Bartakantho.com
ফেসবুক পেজ : www.facebook.com/bartakantho
কারিগরি সসহায়তায় : ক্রিয়েশন আইটি বাংলাদেশ

Design & Devaloped BY Popular-IT.Com

,

টাঙ্গাইলে যুবলীগের দুই

টাঙ্গাইলে যুবলীগের দুই কর্মী হত্যা করে তাদের মরদেহ গুমের ঘটনার রহস্য উন্মোচিত হয়েছে।

টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সাংসদ আমানুর রহমান খান রানার ঘনিষ্ঠ সহযোগী যুবলীগ নেতা ও তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোর্শেদ তার দল নিয়ে এই হত্যাকান্ড ঘটিয়ে মরদেহ গুম করেন।

ঘটনার প্রায় পাঁচ বছর পর এ মামলায় গ্রেফতার হওয়া দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এই তথ্য জানিয়েছেন।

এই দুই আসামির মধ্যে শাহাদত হোসেন সাধু (৪৫) বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) ও খন্দকার জাহিদুল ইসলাম (৩৮) শনিবার (১১ মার্চ) টাঙ্গাইল জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

তাদের দুই জনের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রুপম কান্তি দাশ।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ১৬ জুলাই সকালে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের যুবলীগ কর্মী মোহাম্মদ শামীম (২৮) ও মামুন মিয়া (২৫) বাড়ি থেকে টাঙ্গাইল শহরের উদ্দেশ্যে বের হন। এরপর থেকে তারা নিখোঁজ হন।

Screenshot_80

এ ব্যাপারে শামীমের মা আছিয়া খাতুন বাদি হয়ে পরদিন ১৭ জুলাই টাঙ্গাইল সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

এরপর নিখোঁজ মামুনের বাবা আব্দুল আজিজ বাদি হয়ে ২০১৩ সালের ৯ জুলাই টাঙ্গাইল বিচারিক হাকিম আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন।

মামলায় মোর্শেদসহ তার দলের ১৩ জনকে আসামি করা হয়। পরবর্তীতে মামলার তদন্তের দায়িত্ব টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অশোক কুমার সিংহ বলেন, এ মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি খন্দকার জাহিদুল ইসলাম ও শাহাদত হোসেনকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদকালে তারা এ হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে দুই জনেই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

আদালত সূত্র জানায়, জাহিদুল ও শাহাদত জবানবন্দিতে জানিয়েছেন মামুন ও শামীম হত্যার কিছুদিন আগে সাংসদ আমানুর রহমান খান রানার ভাই জাহিদুর রহমান খান কাকন তার অফিসে মোর্শেদ, স্বপন, জাহিদ, সবুজসহ কয়েকজনকে ডেকে নেন।

পরে, জাহিদুর রহমান খান কাকন তাদের পাঁচ লাখ টাকা ও একটি পিস্তল দিয়ে বেতকা কলেজগেট এলাকার জেলা যুবদলের সভাপতি খন্দকার আহমেদুল হক শাতিলকে হত্যার ব্যবস্থা করতে বলেন। হত্যার কাজে প্রয়োজনীয় আরও টাকা ও অস্ত্র মোর্শেদকে দিতে বলেন।

কাকননের কাছ থেকে মোর্শেদ দায়িত্ব পেয়ে মামুন ও শামীমকে ডেকে আনেন শাতিলকে হত্যার জন্য।

এই হত্যার জন্য দুইটি মোটরসাইকেল, সাত লাখ টাকা ও দুইটি রিভলবার (একটি জাহিদুরের দেওয়া) মামুন ও শামীমকে দেন। কিন্তু তারা হত্যা না করায় পরবর্তীতে তাদের দুই জনকেই মোর্শেদের অফিসে ডেকে এনে হত্যা করে লাশ বাসাইলের নথখোলায় নিয়ে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়।

Views All Time
Views All Time
99
Views Today
Views Today
4

Comments

comments

সর্বশেষ আপডেট



এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



উপদেষ্টা মন্ডলীর সভাপতি : ফারুক আহাম্মেদ (জাপানি ফারুক)
প্রধান উপদেষ্টা : আলহাজ কামরুল হক ভুইয়া
উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য : মো : কামরুজ্জামান কদর
প্রধান সম্পাদক : ইঞ্জিনিয়ার এম, এ, মালেক (জীবন)
সম্পাদক : মুজাহিদুল ইসলাম নাঈম
প্রকাশক : মাহির শাহরিয়ার শিশির
নির্বাহী সম্পাদক : মনেম শাহরিয়ার শাওন

কর্পোরেট অফিস ও বাণিজ্যিক কার্যালয় :
হাজি আসরাফ শপিং কমপ্লেক্স,
হেমায়েতপুর, সাভার, ঢাকা
ফোন : ০১৯১১৭১৭৫৯৯
ইমেইল : Info@Bartakantho.com
ফেসবুক পেজ : www.facebook.com/bartakantho
কারিগরি সসহায়তায় : ক্রিয়েশন আইটি বাংলাদেশ

Design & Devaloped BY Popular-IT.Com