রাত ৯:৪৭ | বৃহস্পতিবার | ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

টাঙ্গাইলে যুবলীগের দুই

টাঙ্গাইলে যুবলীগের দুই কর্মী হত্যা করে তাদের মরদেহ গুমের ঘটনার রহস্য উন্মোচিত হয়েছে।

টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সাংসদ আমানুর রহমান খান রানার ঘনিষ্ঠ সহযোগী যুবলীগ নেতা ও তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোর্শেদ তার দল নিয়ে এই হত্যাকান্ড ঘটিয়ে মরদেহ গুম করেন।

ঘটনার প্রায় পাঁচ বছর পর এ মামলায় গ্রেফতার হওয়া দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এই তথ্য জানিয়েছেন।

এই দুই আসামির মধ্যে শাহাদত হোসেন সাধু (৪৫) বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) ও খন্দকার জাহিদুল ইসলাম (৩৮) শনিবার (১১ মার্চ) টাঙ্গাইল জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

তাদের দুই জনের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রুপম কান্তি দাশ।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ১৬ জুলাই সকালে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের যুবলীগ কর্মী মোহাম্মদ শামীম (২৮) ও মামুন মিয়া (২৫) বাড়ি থেকে টাঙ্গাইল শহরের উদ্দেশ্যে বের হন। এরপর থেকে তারা নিখোঁজ হন।

Screenshot_80

এ ব্যাপারে শামীমের মা আছিয়া খাতুন বাদি হয়ে পরদিন ১৭ জুলাই টাঙ্গাইল সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

এরপর নিখোঁজ মামুনের বাবা আব্দুল আজিজ বাদি হয়ে ২০১৩ সালের ৯ জুলাই টাঙ্গাইল বিচারিক হাকিম আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন।

মামলায় মোর্শেদসহ তার দলের ১৩ জনকে আসামি করা হয়। পরবর্তীতে মামলার তদন্তের দায়িত্ব টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অশোক কুমার সিংহ বলেন, এ মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি খন্দকার জাহিদুল ইসলাম ও শাহাদত হোসেনকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদকালে তারা এ হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে দুই জনেই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

আদালত সূত্র জানায়, জাহিদুল ও শাহাদত জবানবন্দিতে জানিয়েছেন মামুন ও শামীম হত্যার কিছুদিন আগে সাংসদ আমানুর রহমান খান রানার ভাই জাহিদুর রহমান খান কাকন তার অফিসে মোর্শেদ, স্বপন, জাহিদ, সবুজসহ কয়েকজনকে ডেকে নেন।

পরে, জাহিদুর রহমান খান কাকন তাদের পাঁচ লাখ টাকা ও একটি পিস্তল দিয়ে বেতকা কলেজগেট এলাকার জেলা যুবদলের সভাপতি খন্দকার আহমেদুল হক শাতিলকে হত্যার ব্যবস্থা করতে বলেন। হত্যার কাজে প্রয়োজনীয় আরও টাকা ও অস্ত্র মোর্শেদকে দিতে বলেন।

কাকননের কাছ থেকে মোর্শেদ দায়িত্ব পেয়ে মামুন ও শামীমকে ডেকে আনেন শাতিলকে হত্যার জন্য।

এই হত্যার জন্য দুইটি মোটরসাইকেল, সাত লাখ টাকা ও দুইটি রিভলবার (একটি জাহিদুরের দেওয়া) মামুন ও শামীমকে দেন। কিন্তু তারা হত্যা না করায় পরবর্তীতে তাদের দুই জনকেই মোর্শেদের অফিসে ডেকে এনে হত্যা করে লাশ বাসাইলের নথখোলায় নিয়ে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়।

Comments

comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» মিরপুরে ৩টি ফার্মেসি সিলগালা

» আলফাডাঙ্গায় ছাত্রলীগ নেতা আশিকের মাগফেরাত কামনায় দোয়া

» মানবিক সাহায্যের আবেদন

» মাইজদীতে লাইসেন্স বিহীন ফার্মেসিতে জরিমানা ও মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ জব্দ

» আলফাডাঙ্গায় সরকারের সাফল্য নিয়ে আলোচনা সভা

» রোহিঙ্গাদের হত্যার প্রতিবাদে আলফাডাঙ্গায় বিক্ষোভ

» আলফাডাঙ্গায় ইয়াবাসহ চার যুবক আটক

» ৭ ঘন্টা ধরে বিদ্যুৎ বিহীন আলফাডাংগাবাসী অন্ধকারে ও গরমে অতিষ্ঠ।

» শিগগির চালু হচ্ছে এভিয়েশন বিশ্ববিদ্যালয়: মেনন

» আলফাডাঙ্গার দলিল জালিয়াত চক্রের হোতা মোক্তার হোসেন,

» আলফাডাঙ্গা উপজেলার উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা জনাব মোঃ আজহারুল ইসলাম এর বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে।

» শ্রীবরদীতে ভেজাল ঔষুধ জব্দ ॥ ৪ ফার্মেসীর জরিমানা

» সাংসদ আব্দুর রহমানের একান্ত প্রচেস্টায় জাতীয়করণ হলো আলফাডাঙ্গা এ জেড পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়

» ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে আলফাডাঙ্গায় মানববন্ধন

» কাশিয়ানীতে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে দোয়া ও কাঙ্গালী ভোজ।

সদস্য মণ্ডলী : –

উপদেষ্টা : ডা: রফিকুল ইসলাম বিজলী
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুজাহিদুল ইসলাম নাঈম
সম্পাদক ও প্রকাশক : মাহির শাহরিয়ার শিশির
বার্তা সম্পাদক : সাহিদুল ইসলাম পলাশ ভুইয়া
নির্বাহী সম্পাদক : মনেম শাহরিয়ার শাওন

যোগাযোগ : –

সম্পাদকীয় কার্যালয় : ২৩/৩, তোপখানা রোড,
৪র্থ তালা, (পাক্ষিক অনিয়ম এর পাশে) ঢাকা-১০০০
09602111463, 01911717599, 01611354077
fb.com/bartakantho | Info@Bartakantho.com
প্রকাশনা : সানশাইন ক্রিয়েটিভ মিডিয়া লিমিটেড

Design & Devaloped BY Creation IT BD Limited

রাত ৯:৪৭, ,

টাঙ্গাইলে যুবলীগের দুই

টাঙ্গাইলে যুবলীগের দুই কর্মী হত্যা করে তাদের মরদেহ গুমের ঘটনার রহস্য উন্মোচিত হয়েছে।

টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সাংসদ আমানুর রহমান খান রানার ঘনিষ্ঠ সহযোগী যুবলীগ নেতা ও তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোর্শেদ তার দল নিয়ে এই হত্যাকান্ড ঘটিয়ে মরদেহ গুম করেন।

ঘটনার প্রায় পাঁচ বছর পর এ মামলায় গ্রেফতার হওয়া দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এই তথ্য জানিয়েছেন।

এই দুই আসামির মধ্যে শাহাদত হোসেন সাধু (৪৫) বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) ও খন্দকার জাহিদুল ইসলাম (৩৮) শনিবার (১১ মার্চ) টাঙ্গাইল জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

তাদের দুই জনের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রুপম কান্তি দাশ।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ১৬ জুলাই সকালে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের যুবলীগ কর্মী মোহাম্মদ শামীম (২৮) ও মামুন মিয়া (২৫) বাড়ি থেকে টাঙ্গাইল শহরের উদ্দেশ্যে বের হন। এরপর থেকে তারা নিখোঁজ হন।

Screenshot_80

এ ব্যাপারে শামীমের মা আছিয়া খাতুন বাদি হয়ে পরদিন ১৭ জুলাই টাঙ্গাইল সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

এরপর নিখোঁজ মামুনের বাবা আব্দুল আজিজ বাদি হয়ে ২০১৩ সালের ৯ জুলাই টাঙ্গাইল বিচারিক হাকিম আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন।

মামলায় মোর্শেদসহ তার দলের ১৩ জনকে আসামি করা হয়। পরবর্তীতে মামলার তদন্তের দায়িত্ব টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অশোক কুমার সিংহ বলেন, এ মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি খন্দকার জাহিদুল ইসলাম ও শাহাদত হোসেনকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদকালে তারা এ হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে দুই জনেই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

আদালত সূত্র জানায়, জাহিদুল ও শাহাদত জবানবন্দিতে জানিয়েছেন মামুন ও শামীম হত্যার কিছুদিন আগে সাংসদ আমানুর রহমান খান রানার ভাই জাহিদুর রহমান খান কাকন তার অফিসে মোর্শেদ, স্বপন, জাহিদ, সবুজসহ কয়েকজনকে ডেকে নেন।

পরে, জাহিদুর রহমান খান কাকন তাদের পাঁচ লাখ টাকা ও একটি পিস্তল দিয়ে বেতকা কলেজগেট এলাকার জেলা যুবদলের সভাপতি খন্দকার আহমেদুল হক শাতিলকে হত্যার ব্যবস্থা করতে বলেন। হত্যার কাজে প্রয়োজনীয় আরও টাকা ও অস্ত্র মোর্শেদকে দিতে বলেন।

কাকননের কাছ থেকে মোর্শেদ দায়িত্ব পেয়ে মামুন ও শামীমকে ডেকে আনেন শাতিলকে হত্যার জন্য।

এই হত্যার জন্য দুইটি মোটরসাইকেল, সাত লাখ টাকা ও দুইটি রিভলবার (একটি জাহিদুরের দেওয়া) মামুন ও শামীমকে দেন। কিন্তু তারা হত্যা না করায় পরবর্তীতে তাদের দুই জনকেই মোর্শেদের অফিসে ডেকে এনে হত্যা করে লাশ বাসাইলের নথখোলায় নিয়ে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়।

Comments

comments

সর্বশেষ আপডেট



এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সদস্য মণ্ডলী : –

উপদেষ্টা : ডা: রফিকুল ইসলাম বিজলী
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুজাহিদুল ইসলাম নাঈম
সম্পাদক ও প্রকাশক : মাহির শাহরিয়ার শিশির
বার্তা সম্পাদক : সাহিদুল ইসলাম পলাশ ভুইয়া
নির্বাহী সম্পাদক : মনেম শাহরিয়ার শাওন

যোগাযোগ : –

সম্পাদকীয় কার্যালয় : ২৩/৩, তোপখানা রোড,
৪র্থ তালা, (পাক্ষিক অনিয়ম এর পাশে) ঢাকা-১০০০
09602111463, 01911717599, 01611354077
fb.com/bartakantho | Info@Bartakantho.com
প্রকাশনা : সানশাইন ক্রিয়েটিভ মিডিয়া লিমিটেড

Design & Devaloped BY Creation IT BD Limited