রাত ৯:৪৩ | বৃহস্পতিবার | ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

সমুদ্রে ভেসে গিয়েছিল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ প্রাণ

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ পালিত হচ্ছে শোক দিবস। এক যুগ আগে ২০০৪ সালের আজকের দিনে সুন্দরবনের কটকা সৈকতে ভেসে গিয়েছিল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নয় শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুই ছাত্রসহ মোট ১১টি তরুণ প্রাণ।

নবীন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাজানো গোছানো পরিবারের ওপর প্রথম বড়সড় এক আঘাতের দিন ছিল সেটি। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিহত ছাত্রছাত্রীদের সবাই ছিলেন স্থাপত্য ডিসিপ্লিনের। সমুদ্রের মতো মন নিয়ে আকাশছোঁয়ার অঙ্গীকারে সমুদ্রস্নানে গিয়েছিলেন তাঁরা। নেমেছিলেন কটকার সুন্দরসৈকতে। কিন্তু সাগরের প্রকাণ্ড ঢেউয়ের তোড়ে সম্ভাবনাময় ওই শিক্ষার্থীদের জীবনঘণ্টার কাঁটা থমকে যায়। কটকার নির্জন সৈকতে সলিলসমাধি হয় তাঁদের।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য ডিসিপ্লিনের নয় শিক্ষার্থী এ দুর্ঘটনায় মারা যান তাঁরা হলেন আরনাজ রিফাত রূপা, মো. মাহমুদুর রহমান, মাকসুমুল আজিজ মোস্তাজী, আবদুল্লাহেল বাকী, কাজী মুয়ীদ বিন ওয়ালী, মো. কাওসার আহমেদ খান, মুনাদিল রায়হান বিন মাহবুব, মো. আশরাফুজ্জামান, মো. তৌহিদুল এনাম। আর বুয়েটের দুজন ছাত্রের নাম সামিউল ও শাকিল। ওই দিনের পর থেকেই প্রতিবছর এ দিনটিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শোক দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।

সেদিন যাঁরা মারা গিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে তোহা ভালো গাইতেন, বাজাতেন গিটারও। ভরাটকণ্ঠের মিশুক-বিনয়ী এই ছেলেটির ছিল যে কারো মন জয়ের ক্ষমতাই। ঢাকার বদরুন্নেসা কলেজ থেকে পাস করে খুলনায় পড়তে আসা রূপার শখ ছিল রান্নার। অপুর ছিল দারুণ লেখার হাতি। স্থাপত্য বিভাগের এই নয় বন্ধুই নিজেদের মেধায় কীর্তিতে ছিলেন ভাস্বর। আর তাই এই শিক্ষার্থীদের অকালপ্রয়াণ বিশ্ববিদ্যালয়ের অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবেই দেখা হয়।

গত কয়েকদিন ধরেই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শোকের আবহ। এই নয় শিক্ষার্থী স্মরণে ক্যাম্পাসে কটকা নামে যে স্মৃতিস্তম্ভ সেখানকার আশপাশের প্রায় আধা কিলোমিটার পর্যন্ত জায়গার গাছগুলোও কালো কাপড়ে মোড়ানো।

রাস্তায় আঁকা সাদাকালো আলপনা, আর আলপনায় লেখা দুঃখগাঁথা। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় আজও গভীর ভালোবাসায় ধরে রেখেছে অকালপ্রয়াত ওই নয় শিক্ষার্থীর স্মৃতি।

আজও দিনটির স্মরণে শোকে স্তব্ধ গোটা বিশ্ববিদ্যালয়ই যেন বলে ওঠে, তোমাদের চলে যাওয়া মানে প্রস্থান নয়। তোমরা আছ হৃদয়ে।

Comments

comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» মিরপুরে ৩টি ফার্মেসি সিলগালা

» আলফাডাঙ্গায় ছাত্রলীগ নেতা আশিকের মাগফেরাত কামনায় দোয়া

» মানবিক সাহায্যের আবেদন

» মাইজদীতে লাইসেন্স বিহীন ফার্মেসিতে জরিমানা ও মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ জব্দ

» আলফাডাঙ্গায় সরকারের সাফল্য নিয়ে আলোচনা সভা

» রোহিঙ্গাদের হত্যার প্রতিবাদে আলফাডাঙ্গায় বিক্ষোভ

» আলফাডাঙ্গায় ইয়াবাসহ চার যুবক আটক

» ৭ ঘন্টা ধরে বিদ্যুৎ বিহীন আলফাডাংগাবাসী অন্ধকারে ও গরমে অতিষ্ঠ।

» শিগগির চালু হচ্ছে এভিয়েশন বিশ্ববিদ্যালয়: মেনন

» আলফাডাঙ্গার দলিল জালিয়াত চক্রের হোতা মোক্তার হোসেন,

» আলফাডাঙ্গা উপজেলার উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা জনাব মোঃ আজহারুল ইসলাম এর বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে।

» শ্রীবরদীতে ভেজাল ঔষুধ জব্দ ॥ ৪ ফার্মেসীর জরিমানা

» সাংসদ আব্দুর রহমানের একান্ত প্রচেস্টায় জাতীয়করণ হলো আলফাডাঙ্গা এ জেড পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়

» ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে আলফাডাঙ্গায় মানববন্ধন

» কাশিয়ানীতে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে দোয়া ও কাঙ্গালী ভোজ।

সদস্য মণ্ডলী : –

উপদেষ্টা : ডা: রফিকুল ইসলাম বিজলী
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুজাহিদুল ইসলাম নাঈম
সম্পাদক ও প্রকাশক : মাহির শাহরিয়ার শিশির
বার্তা সম্পাদক : সাহিদুল ইসলাম পলাশ ভুইয়া
নির্বাহী সম্পাদক : মনেম শাহরিয়ার শাওন

যোগাযোগ : –

সম্পাদকীয় কার্যালয় : ২৩/৩, তোপখানা রোড,
৪র্থ তালা, (পাক্ষিক অনিয়ম এর পাশে) ঢাকা-১০০০
09602111463, 01911717599, 01611354077
fb.com/bartakantho | Info@Bartakantho.com
প্রকাশনা : সানশাইন ক্রিয়েটিভ মিডিয়া লিমিটেড

Design & Devaloped BY Creation IT BD Limited

রাত ৯:৪৩, ,

সমুদ্রে ভেসে গিয়েছিল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ প্রাণ

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ পালিত হচ্ছে শোক দিবস। এক যুগ আগে ২০০৪ সালের আজকের দিনে সুন্দরবনের কটকা সৈকতে ভেসে গিয়েছিল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নয় শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুই ছাত্রসহ মোট ১১টি তরুণ প্রাণ।

নবীন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাজানো গোছানো পরিবারের ওপর প্রথম বড়সড় এক আঘাতের দিন ছিল সেটি। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিহত ছাত্রছাত্রীদের সবাই ছিলেন স্থাপত্য ডিসিপ্লিনের। সমুদ্রের মতো মন নিয়ে আকাশছোঁয়ার অঙ্গীকারে সমুদ্রস্নানে গিয়েছিলেন তাঁরা। নেমেছিলেন কটকার সুন্দরসৈকতে। কিন্তু সাগরের প্রকাণ্ড ঢেউয়ের তোড়ে সম্ভাবনাময় ওই শিক্ষার্থীদের জীবনঘণ্টার কাঁটা থমকে যায়। কটকার নির্জন সৈকতে সলিলসমাধি হয় তাঁদের।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য ডিসিপ্লিনের নয় শিক্ষার্থী এ দুর্ঘটনায় মারা যান তাঁরা হলেন আরনাজ রিফাত রূপা, মো. মাহমুদুর রহমান, মাকসুমুল আজিজ মোস্তাজী, আবদুল্লাহেল বাকী, কাজী মুয়ীদ বিন ওয়ালী, মো. কাওসার আহমেদ খান, মুনাদিল রায়হান বিন মাহবুব, মো. আশরাফুজ্জামান, মো. তৌহিদুল এনাম। আর বুয়েটের দুজন ছাত্রের নাম সামিউল ও শাকিল। ওই দিনের পর থেকেই প্রতিবছর এ দিনটিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শোক দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।

সেদিন যাঁরা মারা গিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে তোহা ভালো গাইতেন, বাজাতেন গিটারও। ভরাটকণ্ঠের মিশুক-বিনয়ী এই ছেলেটির ছিল যে কারো মন জয়ের ক্ষমতাই। ঢাকার বদরুন্নেসা কলেজ থেকে পাস করে খুলনায় পড়তে আসা রূপার শখ ছিল রান্নার। অপুর ছিল দারুণ লেখার হাতি। স্থাপত্য বিভাগের এই নয় বন্ধুই নিজেদের মেধায় কীর্তিতে ছিলেন ভাস্বর। আর তাই এই শিক্ষার্থীদের অকালপ্রয়াণ বিশ্ববিদ্যালয়ের অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবেই দেখা হয়।

গত কয়েকদিন ধরেই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শোকের আবহ। এই নয় শিক্ষার্থী স্মরণে ক্যাম্পাসে কটকা নামে যে স্মৃতিস্তম্ভ সেখানকার আশপাশের প্রায় আধা কিলোমিটার পর্যন্ত জায়গার গাছগুলোও কালো কাপড়ে মোড়ানো।

রাস্তায় আঁকা সাদাকালো আলপনা, আর আলপনায় লেখা দুঃখগাঁথা। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় আজও গভীর ভালোবাসায় ধরে রেখেছে অকালপ্রয়াত ওই নয় শিক্ষার্থীর স্মৃতি।

আজও দিনটির স্মরণে শোকে স্তব্ধ গোটা বিশ্ববিদ্যালয়ই যেন বলে ওঠে, তোমাদের চলে যাওয়া মানে প্রস্থান নয়। তোমরা আছ হৃদয়ে।

Comments

comments

সর্বশেষ আপডেট



এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সদস্য মণ্ডলী : –

উপদেষ্টা : ডা: রফিকুল ইসলাম বিজলী
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুজাহিদুল ইসলাম নাঈম
সম্পাদক ও প্রকাশক : মাহির শাহরিয়ার শিশির
বার্তা সম্পাদক : সাহিদুল ইসলাম পলাশ ভুইয়া
নির্বাহী সম্পাদক : মনেম শাহরিয়ার শাওন

যোগাযোগ : –

সম্পাদকীয় কার্যালয় : ২৩/৩, তোপখানা রোড,
৪র্থ তালা, (পাক্ষিক অনিয়ম এর পাশে) ঢাকা-১০০০
09602111463, 01911717599, 01611354077
fb.com/bartakantho | Info@Bartakantho.com
প্রকাশনা : সানশাইন ক্রিয়েটিভ মিডিয়া লিমিটেড

Design & Devaloped BY Creation IT BD Limited