সকাল ১০:৩৩ | বৃহস্পতিবার | ২৭শে জুলাই, ২০১৭ ইং | ১২ই শ্রাবণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

নিজ ইচ্ছায় মুখে জোঁক লাগাচ্ছে তরুণীরা, নেপথ্যে যে কারণ!

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক – জোঁকের কথা মনে করলেই যেন ভয়ে গা ছমছম করে ওঠে। রক্ত চোষা এই জীবগুলো এমনভাবে মানুষের শরীরে বসে রক্ত শুষে নেয় যে, মানুষ তা অনুভবই করতে পারে না। রক্ত শোষা শেষ হলে ক্ষত স্থানে জ্বালা ধরলে মানুষ বুঝতে পারে তার শরীর থেকে রক্ত ঝড়ছে। এই ভীতিকর জীবটি এখন ব্যবহার করা হচ্ছে চর্মরোগের চিকিৎসায়। অনেকেই চর্মরোগের চিকিৎসায় জোঁকের ব্যবহার শুনে ভয়ে শিউরে উঠবেন। কিন্তু সত্যি সত্যি জোঁক ব্যবহার করে চর্মরোগের চিকিৎসা দিচ্ছে ভারতের ছত্তিশগড়েরর জিআই রোডের একদল আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক। সেখানকার হাসপাতালে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই চিকিৎসা।

বর্তমান সময়ে ব্রণ সমস্যা নিয়ে তরুণ-তরুণীরা বড় দুশ্চিতায় পড়েন। নানা ধরনের প্রসাধনী ও ওষুধ খেয়েও ব্রণ দূর করতে পারেন না। ফলে দুশ্চিন্তায় ‍নির্ঘুম রাত কাটে তাদের । রাত জাগার ফলে ব্রণ সমস্যা আরো বাড়তে থাকে। উঠতি বয়সের এই ব্রণ সমস্যার চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে জোঁক ব্যবহার করে। চিকিৎসকরা বলছেন, ‘জোঁক মানব দেহ থেকে দূষিত রক্ত শুষে নিয়ে বিশুদ্ধ রক্তের প্রবাহ বাড়ায়। এতে অনেক ধরনের চর্মরোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।’

ভারতের ছত্তিশগড়ের একটি হাসপাতালে জোঁক ব্যবহার করে চিকিৎসা দেন ডাক্তার উত্তম কুমার নির্মলকর। তিনি জানান, জোঁকের লালায় হিপেরিন, কেলিন এব‌ং বেডলিন নামের রাসায়নিক থাকে। এগুলি ব্রণের মতো চর্মরোগ সারাতে সাহায্য করে। যাঁরা ব্রণের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের ব্রণের উপরে ছেড়ে দেওয়া হয় জোঁক। জোঁক দূষিত রক্ত শুষে নিতে শুরু করে। পরিণামে সংশ্লিষ্ট অংশে শুদ্ধ রক্ত প্রবাহিত হতে থাকে। ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট ধরে চলে এই রক্তশোধন প্রক্রিয়া। এই পদ্ধতিতে মোটামুটি চার সপ্তাহের অর্থাৎ প্রায় এক মাসের চিকিৎসায় ব্রণ সম্পূর্ণ নির্মূল হয়। চিকিৎসা চলাকালীন মুলেঠি, যষ্টিমধু, মুখক্রান্তি, ঘৃতকুমারী, চন্দনের মতো ভেষজ উপাদান রোগীর মুখে প্রয়োগ করা হয়। এতে রোগীর ত্বক আরো কোমল ও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

jok

শুধু ব্রণ নয়, জোঁকের সাহায্যে এই হাসাপাতালে সারানো হচ্ছে টাকের সমস্যাও। এর জন্য প্রথমে জোঁকগুলিকে হলুদ গোলা জলে ছেড়ে রাখা হয়। এতে জোঁকের রক্তশোষণের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এর পর রোগীর মাথার চুল কামিয়ে ফেলে টাকপড়া অংশে ছেড়ে দেওয়া হয় জোঁক। সেই অংশের দূষিত রক্ত জোঁক শুষে নেয় এবং চুল ওঠার উপযোগী নিউট্রিশন সঞ্চারিত হয়। ফলে নতুন করে চুল গজায়।

এই অভিনব পদ্ধতির চিকিৎসা নিতে রোগীরা বেশ ভীড় করছেন ভারতের ছত্তিশগড়ের ওই হাসপাতালে। জোঁক দেখে ভয় করছে না? এমন প্রশ্নে উত্তরে রোগীরা জানালেন, চিকিৎসা চলার সময় তাদের চোখ বন্ধ থাকে। আর জোঁক যে কখন তাদের গায়ে বসানো হয় এবং কখন রক্ত শুষে নেয় তা তারা একবারেই অনুভব করতে পারেন না। রোগাীরা জানালেন তারা এই পদ্ধতিতে বেশ উপকার পাচ্ছেন। একজন চিকিৎসা নিয়ে ফিরে যেয়ে তার বন্ধু-বান্ধব এবং আত্নীয়-স্বজনসহ পরিচিত যারা চর্মরোগে ভুগছেন তাদেরকে ডেকে নিয়ে যান ওই হাসপাতালে। ফলে চিকিৎসকরাও বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন।

চিকিৎসক উত্তমকুমার নির্মলকর বলেন, ‘আসলে জোঁকের মুখে এক ধরনের এনজাইম থাকে। তার সাহায্যে কোনও প্রাণীর রক্ত শোষণের সময়ে সংশ্লিষ্ট অংশটি অবশ করে দেয় তারা। তাদের শিকার তাই কিছু টেরই পায় না’ ।

Views All Time
Views All Time
174
Views Today
Views Today
1

Comments

comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» অবশেষে ১৪ বছর পর আলফাডাংগা উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের উদ্যোগ

» রুবেল শেখের চিকিৎসার ভার নিলেন জাপানী ফারুক।

» রেলওয়ে ষ্টেশনের নাম পরিবর্তনের দাবীতে কাশিয়ানীতে মানববন্ধন

» আসছে মনেম এর “অপূর্ণতা” শর্ট ফিল্ম

» আলফাডাঙ্গার কাঞ্চন একাডেমি তে ইফতার মাহফিল ও অভিভাবক সমাবেশ।

» আলফাডাঙ্গায় ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা

» মাহে রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় আলফাডাঙ্গায় র্যালী

» ৩য় বছরে মীরবাজার

» যক্ষ্মারোগ ও রোগীদের তথ্য সংরক্ষন বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে প্রশিক তৈরি বিষয়ক প্রশিক্ষক তৈরি

» আলফাডাঙ্গা অনলাইন প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

» উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তার বিদায় সংবর্ধনা

» গোপালগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার ল্যব লুট

» বন্দরে তিন ফার্মেসিকে জরিমানা

» ধেয়ে আসছে লোডশেডিং

» ইতিহাস গড়ার পথে বাহুবলী ২

উপদেষ্টা মন্ডলীর সভাপতি : ফারুক আহাম্মেদ (জাপানি ফারুক)
প্রধান উপদেষ্টা : আলহাজ কামরুল হক ভুইয়া
উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য : মো : কামরুজ্জামান কদর
প্রধান সম্পাদক : ইঞ্জিনিয়ার এম, এ, মালেক (জীবন)
সম্পাদক : মুজাহিদুল ইসলাম নাঈম
প্রকাশক : মাহির শাহরিয়ার শিশির
নির্বাহী সম্পাদক : মনেম শাহরিয়ার শাওন

কর্পোরেট অফিস ও বাণিজ্যিক কার্যালয় :
হাজি আসরাফ শপিং কমপ্লেক্স,
হেমায়েতপুর, সাভার, ঢাকা
ফোন : ০১৯১১৭১৭৫৯৯
ইমেইল : Info@Bartakantho.com
ফেসবুক পেজ : www.facebook.com/bartakantho
কারিগরি সসহায়তায় : ক্রিয়েশন আইটি বাংলাদেশ

Design & Devaloped BY Popular-IT.Com

,

নিজ ইচ্ছায় মুখে জোঁক লাগাচ্ছে তরুণীরা, নেপথ্যে যে কারণ!

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক – জোঁকের কথা মনে করলেই যেন ভয়ে গা ছমছম করে ওঠে। রক্ত চোষা এই জীবগুলো এমনভাবে মানুষের শরীরে বসে রক্ত শুষে নেয় যে, মানুষ তা অনুভবই করতে পারে না। রক্ত শোষা শেষ হলে ক্ষত স্থানে জ্বালা ধরলে মানুষ বুঝতে পারে তার শরীর থেকে রক্ত ঝড়ছে। এই ভীতিকর জীবটি এখন ব্যবহার করা হচ্ছে চর্মরোগের চিকিৎসায়। অনেকেই চর্মরোগের চিকিৎসায় জোঁকের ব্যবহার শুনে ভয়ে শিউরে উঠবেন। কিন্তু সত্যি সত্যি জোঁক ব্যবহার করে চর্মরোগের চিকিৎসা দিচ্ছে ভারতের ছত্তিশগড়েরর জিআই রোডের একদল আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক। সেখানকার হাসপাতালে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই চিকিৎসা।

বর্তমান সময়ে ব্রণ সমস্যা নিয়ে তরুণ-তরুণীরা বড় দুশ্চিতায় পড়েন। নানা ধরনের প্রসাধনী ও ওষুধ খেয়েও ব্রণ দূর করতে পারেন না। ফলে দুশ্চিন্তায় ‍নির্ঘুম রাত কাটে তাদের । রাত জাগার ফলে ব্রণ সমস্যা আরো বাড়তে থাকে। উঠতি বয়সের এই ব্রণ সমস্যার চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে জোঁক ব্যবহার করে। চিকিৎসকরা বলছেন, ‘জোঁক মানব দেহ থেকে দূষিত রক্ত শুষে নিয়ে বিশুদ্ধ রক্তের প্রবাহ বাড়ায়। এতে অনেক ধরনের চর্মরোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।’

ভারতের ছত্তিশগড়ের একটি হাসপাতালে জোঁক ব্যবহার করে চিকিৎসা দেন ডাক্তার উত্তম কুমার নির্মলকর। তিনি জানান, জোঁকের লালায় হিপেরিন, কেলিন এব‌ং বেডলিন নামের রাসায়নিক থাকে। এগুলি ব্রণের মতো চর্মরোগ সারাতে সাহায্য করে। যাঁরা ব্রণের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের ব্রণের উপরে ছেড়ে দেওয়া হয় জোঁক। জোঁক দূষিত রক্ত শুষে নিতে শুরু করে। পরিণামে সংশ্লিষ্ট অংশে শুদ্ধ রক্ত প্রবাহিত হতে থাকে। ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট ধরে চলে এই রক্তশোধন প্রক্রিয়া। এই পদ্ধতিতে মোটামুটি চার সপ্তাহের অর্থাৎ প্রায় এক মাসের চিকিৎসায় ব্রণ সম্পূর্ণ নির্মূল হয়। চিকিৎসা চলাকালীন মুলেঠি, যষ্টিমধু, মুখক্রান্তি, ঘৃতকুমারী, চন্দনের মতো ভেষজ উপাদান রোগীর মুখে প্রয়োগ করা হয়। এতে রোগীর ত্বক আরো কোমল ও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

jok

শুধু ব্রণ নয়, জোঁকের সাহায্যে এই হাসাপাতালে সারানো হচ্ছে টাকের সমস্যাও। এর জন্য প্রথমে জোঁকগুলিকে হলুদ গোলা জলে ছেড়ে রাখা হয়। এতে জোঁকের রক্তশোষণের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এর পর রোগীর মাথার চুল কামিয়ে ফেলে টাকপড়া অংশে ছেড়ে দেওয়া হয় জোঁক। সেই অংশের দূষিত রক্ত জোঁক শুষে নেয় এবং চুল ওঠার উপযোগী নিউট্রিশন সঞ্চারিত হয়। ফলে নতুন করে চুল গজায়।

এই অভিনব পদ্ধতির চিকিৎসা নিতে রোগীরা বেশ ভীড় করছেন ভারতের ছত্তিশগড়ের ওই হাসপাতালে। জোঁক দেখে ভয় করছে না? এমন প্রশ্নে উত্তরে রোগীরা জানালেন, চিকিৎসা চলার সময় তাদের চোখ বন্ধ থাকে। আর জোঁক যে কখন তাদের গায়ে বসানো হয় এবং কখন রক্ত শুষে নেয় তা তারা একবারেই অনুভব করতে পারেন না। রোগাীরা জানালেন তারা এই পদ্ধতিতে বেশ উপকার পাচ্ছেন। একজন চিকিৎসা নিয়ে ফিরে যেয়ে তার বন্ধু-বান্ধব এবং আত্নীয়-স্বজনসহ পরিচিত যারা চর্মরোগে ভুগছেন তাদেরকে ডেকে নিয়ে যান ওই হাসপাতালে। ফলে চিকিৎসকরাও বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন।

চিকিৎসক উত্তমকুমার নির্মলকর বলেন, ‘আসলে জোঁকের মুখে এক ধরনের এনজাইম থাকে। তার সাহায্যে কোনও প্রাণীর রক্ত শোষণের সময়ে সংশ্লিষ্ট অংশটি অবশ করে দেয় তারা। তাদের শিকার তাই কিছু টেরই পায় না’ ।

Views All Time
Views All Time
174
Views Today
Views Today
1

Comments

comments

সর্বশেষ আপডেট



এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



উপদেষ্টা মন্ডলীর সভাপতি : ফারুক আহাম্মেদ (জাপানি ফারুক)
প্রধান উপদেষ্টা : আলহাজ কামরুল হক ভুইয়া
উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য : মো : কামরুজ্জামান কদর
প্রধান সম্পাদক : ইঞ্জিনিয়ার এম, এ, মালেক (জীবন)
সম্পাদক : মুজাহিদুল ইসলাম নাঈম
প্রকাশক : মাহির শাহরিয়ার শিশির
নির্বাহী সম্পাদক : মনেম শাহরিয়ার শাওন

কর্পোরেট অফিস ও বাণিজ্যিক কার্যালয় :
হাজি আসরাফ শপিং কমপ্লেক্স,
হেমায়েতপুর, সাভার, ঢাকা
ফোন : ০১৯১১৭১৭৫৯৯
ইমেইল : Info@Bartakantho.com
ফেসবুক পেজ : www.facebook.com/bartakantho
কারিগরি সসহায়তায় : ক্রিয়েশন আইটি বাংলাদেশ

Design & Devaloped BY Popular-IT.Com