রাত ৯:৪৫ | বৃহস্পতিবার | ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

নিজ ইচ্ছায় মুখে জোঁক লাগাচ্ছে তরুণীরা, নেপথ্যে যে কারণ!

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক – জোঁকের কথা মনে করলেই যেন ভয়ে গা ছমছম করে ওঠে। রক্ত চোষা এই জীবগুলো এমনভাবে মানুষের শরীরে বসে রক্ত শুষে নেয় যে, মানুষ তা অনুভবই করতে পারে না। রক্ত শোষা শেষ হলে ক্ষত স্থানে জ্বালা ধরলে মানুষ বুঝতে পারে তার শরীর থেকে রক্ত ঝড়ছে। এই ভীতিকর জীবটি এখন ব্যবহার করা হচ্ছে চর্মরোগের চিকিৎসায়। অনেকেই চর্মরোগের চিকিৎসায় জোঁকের ব্যবহার শুনে ভয়ে শিউরে উঠবেন। কিন্তু সত্যি সত্যি জোঁক ব্যবহার করে চর্মরোগের চিকিৎসা দিচ্ছে ভারতের ছত্তিশগড়েরর জিআই রোডের একদল আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক। সেখানকার হাসপাতালে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই চিকিৎসা।

বর্তমান সময়ে ব্রণ সমস্যা নিয়ে তরুণ-তরুণীরা বড় দুশ্চিতায় পড়েন। নানা ধরনের প্রসাধনী ও ওষুধ খেয়েও ব্রণ দূর করতে পারেন না। ফলে দুশ্চিন্তায় ‍নির্ঘুম রাত কাটে তাদের । রাত জাগার ফলে ব্রণ সমস্যা আরো বাড়তে থাকে। উঠতি বয়সের এই ব্রণ সমস্যার চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে জোঁক ব্যবহার করে। চিকিৎসকরা বলছেন, ‘জোঁক মানব দেহ থেকে দূষিত রক্ত শুষে নিয়ে বিশুদ্ধ রক্তের প্রবাহ বাড়ায়। এতে অনেক ধরনের চর্মরোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।’

ভারতের ছত্তিশগড়ের একটি হাসপাতালে জোঁক ব্যবহার করে চিকিৎসা দেন ডাক্তার উত্তম কুমার নির্মলকর। তিনি জানান, জোঁকের লালায় হিপেরিন, কেলিন এব‌ং বেডলিন নামের রাসায়নিক থাকে। এগুলি ব্রণের মতো চর্মরোগ সারাতে সাহায্য করে। যাঁরা ব্রণের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের ব্রণের উপরে ছেড়ে দেওয়া হয় জোঁক। জোঁক দূষিত রক্ত শুষে নিতে শুরু করে। পরিণামে সংশ্লিষ্ট অংশে শুদ্ধ রক্ত প্রবাহিত হতে থাকে। ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট ধরে চলে এই রক্তশোধন প্রক্রিয়া। এই পদ্ধতিতে মোটামুটি চার সপ্তাহের অর্থাৎ প্রায় এক মাসের চিকিৎসায় ব্রণ সম্পূর্ণ নির্মূল হয়। চিকিৎসা চলাকালীন মুলেঠি, যষ্টিমধু, মুখক্রান্তি, ঘৃতকুমারী, চন্দনের মতো ভেষজ উপাদান রোগীর মুখে প্রয়োগ করা হয়। এতে রোগীর ত্বক আরো কোমল ও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

jok

শুধু ব্রণ নয়, জোঁকের সাহায্যে এই হাসাপাতালে সারানো হচ্ছে টাকের সমস্যাও। এর জন্য প্রথমে জোঁকগুলিকে হলুদ গোলা জলে ছেড়ে রাখা হয়। এতে জোঁকের রক্তশোষণের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এর পর রোগীর মাথার চুল কামিয়ে ফেলে টাকপড়া অংশে ছেড়ে দেওয়া হয় জোঁক। সেই অংশের দূষিত রক্ত জোঁক শুষে নেয় এবং চুল ওঠার উপযোগী নিউট্রিশন সঞ্চারিত হয়। ফলে নতুন করে চুল গজায়।

এই অভিনব পদ্ধতির চিকিৎসা নিতে রোগীরা বেশ ভীড় করছেন ভারতের ছত্তিশগড়ের ওই হাসপাতালে। জোঁক দেখে ভয় করছে না? এমন প্রশ্নে উত্তরে রোগীরা জানালেন, চিকিৎসা চলার সময় তাদের চোখ বন্ধ থাকে। আর জোঁক যে কখন তাদের গায়ে বসানো হয় এবং কখন রক্ত শুষে নেয় তা তারা একবারেই অনুভব করতে পারেন না। রোগাীরা জানালেন তারা এই পদ্ধতিতে বেশ উপকার পাচ্ছেন। একজন চিকিৎসা নিয়ে ফিরে যেয়ে তার বন্ধু-বান্ধব এবং আত্নীয়-স্বজনসহ পরিচিত যারা চর্মরোগে ভুগছেন তাদেরকে ডেকে নিয়ে যান ওই হাসপাতালে। ফলে চিকিৎসকরাও বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন।

চিকিৎসক উত্তমকুমার নির্মলকর বলেন, ‘আসলে জোঁকের মুখে এক ধরনের এনজাইম থাকে। তার সাহায্যে কোনও প্রাণীর রক্ত শোষণের সময়ে সংশ্লিষ্ট অংশটি অবশ করে দেয় তারা। তাদের শিকার তাই কিছু টেরই পায় না’ ।

Comments

comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» মিরপুরে ৩টি ফার্মেসি সিলগালা

» আলফাডাঙ্গায় ছাত্রলীগ নেতা আশিকের মাগফেরাত কামনায় দোয়া

» মানবিক সাহায্যের আবেদন

» মাইজদীতে লাইসেন্স বিহীন ফার্মেসিতে জরিমানা ও মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ জব্দ

» আলফাডাঙ্গায় সরকারের সাফল্য নিয়ে আলোচনা সভা

» রোহিঙ্গাদের হত্যার প্রতিবাদে আলফাডাঙ্গায় বিক্ষোভ

» আলফাডাঙ্গায় ইয়াবাসহ চার যুবক আটক

» ৭ ঘন্টা ধরে বিদ্যুৎ বিহীন আলফাডাংগাবাসী অন্ধকারে ও গরমে অতিষ্ঠ।

» শিগগির চালু হচ্ছে এভিয়েশন বিশ্ববিদ্যালয়: মেনন

» আলফাডাঙ্গার দলিল জালিয়াত চক্রের হোতা মোক্তার হোসেন,

» আলফাডাঙ্গা উপজেলার উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা জনাব মোঃ আজহারুল ইসলাম এর বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে।

» শ্রীবরদীতে ভেজাল ঔষুধ জব্দ ॥ ৪ ফার্মেসীর জরিমানা

» সাংসদ আব্দুর রহমানের একান্ত প্রচেস্টায় জাতীয়করণ হলো আলফাডাঙ্গা এ জেড পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়

» ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে আলফাডাঙ্গায় মানববন্ধন

» কাশিয়ানীতে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে দোয়া ও কাঙ্গালী ভোজ।

সদস্য মণ্ডলী : –

উপদেষ্টা : ডা: রফিকুল ইসলাম বিজলী
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুজাহিদুল ইসলাম নাঈম
সম্পাদক ও প্রকাশক : মাহির শাহরিয়ার শিশির
বার্তা সম্পাদক : সাহিদুল ইসলাম পলাশ ভুইয়া
নির্বাহী সম্পাদক : মনেম শাহরিয়ার শাওন

যোগাযোগ : –

সম্পাদকীয় কার্যালয় : ২৩/৩, তোপখানা রোড,
৪র্থ তালা, (পাক্ষিক অনিয়ম এর পাশে) ঢাকা-১০০০
09602111463, 01911717599, 01611354077
fb.com/bartakantho | Info@Bartakantho.com
প্রকাশনা : সানশাইন ক্রিয়েটিভ মিডিয়া লিমিটেড

Design & Devaloped BY Creation IT BD Limited

রাত ৯:৪৫, ,

নিজ ইচ্ছায় মুখে জোঁক লাগাচ্ছে তরুণীরা, নেপথ্যে যে কারণ!

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক – জোঁকের কথা মনে করলেই যেন ভয়ে গা ছমছম করে ওঠে। রক্ত চোষা এই জীবগুলো এমনভাবে মানুষের শরীরে বসে রক্ত শুষে নেয় যে, মানুষ তা অনুভবই করতে পারে না। রক্ত শোষা শেষ হলে ক্ষত স্থানে জ্বালা ধরলে মানুষ বুঝতে পারে তার শরীর থেকে রক্ত ঝড়ছে। এই ভীতিকর জীবটি এখন ব্যবহার করা হচ্ছে চর্মরোগের চিকিৎসায়। অনেকেই চর্মরোগের চিকিৎসায় জোঁকের ব্যবহার শুনে ভয়ে শিউরে উঠবেন। কিন্তু সত্যি সত্যি জোঁক ব্যবহার করে চর্মরোগের চিকিৎসা দিচ্ছে ভারতের ছত্তিশগড়েরর জিআই রোডের একদল আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক। সেখানকার হাসপাতালে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই চিকিৎসা।

বর্তমান সময়ে ব্রণ সমস্যা নিয়ে তরুণ-তরুণীরা বড় দুশ্চিতায় পড়েন। নানা ধরনের প্রসাধনী ও ওষুধ খেয়েও ব্রণ দূর করতে পারেন না। ফলে দুশ্চিন্তায় ‍নির্ঘুম রাত কাটে তাদের । রাত জাগার ফলে ব্রণ সমস্যা আরো বাড়তে থাকে। উঠতি বয়সের এই ব্রণ সমস্যার চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে জোঁক ব্যবহার করে। চিকিৎসকরা বলছেন, ‘জোঁক মানব দেহ থেকে দূষিত রক্ত শুষে নিয়ে বিশুদ্ধ রক্তের প্রবাহ বাড়ায়। এতে অনেক ধরনের চর্মরোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।’

ভারতের ছত্তিশগড়ের একটি হাসপাতালে জোঁক ব্যবহার করে চিকিৎসা দেন ডাক্তার উত্তম কুমার নির্মলকর। তিনি জানান, জোঁকের লালায় হিপেরিন, কেলিন এব‌ং বেডলিন নামের রাসায়নিক থাকে। এগুলি ব্রণের মতো চর্মরোগ সারাতে সাহায্য করে। যাঁরা ব্রণের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের ব্রণের উপরে ছেড়ে দেওয়া হয় জোঁক। জোঁক দূষিত রক্ত শুষে নিতে শুরু করে। পরিণামে সংশ্লিষ্ট অংশে শুদ্ধ রক্ত প্রবাহিত হতে থাকে। ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট ধরে চলে এই রক্তশোধন প্রক্রিয়া। এই পদ্ধতিতে মোটামুটি চার সপ্তাহের অর্থাৎ প্রায় এক মাসের চিকিৎসায় ব্রণ সম্পূর্ণ নির্মূল হয়। চিকিৎসা চলাকালীন মুলেঠি, যষ্টিমধু, মুখক্রান্তি, ঘৃতকুমারী, চন্দনের মতো ভেষজ উপাদান রোগীর মুখে প্রয়োগ করা হয়। এতে রোগীর ত্বক আরো কোমল ও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

jok

শুধু ব্রণ নয়, জোঁকের সাহায্যে এই হাসাপাতালে সারানো হচ্ছে টাকের সমস্যাও। এর জন্য প্রথমে জোঁকগুলিকে হলুদ গোলা জলে ছেড়ে রাখা হয়। এতে জোঁকের রক্তশোষণের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এর পর রোগীর মাথার চুল কামিয়ে ফেলে টাকপড়া অংশে ছেড়ে দেওয়া হয় জোঁক। সেই অংশের দূষিত রক্ত জোঁক শুষে নেয় এবং চুল ওঠার উপযোগী নিউট্রিশন সঞ্চারিত হয়। ফলে নতুন করে চুল গজায়।

এই অভিনব পদ্ধতির চিকিৎসা নিতে রোগীরা বেশ ভীড় করছেন ভারতের ছত্তিশগড়ের ওই হাসপাতালে। জোঁক দেখে ভয় করছে না? এমন প্রশ্নে উত্তরে রোগীরা জানালেন, চিকিৎসা চলার সময় তাদের চোখ বন্ধ থাকে। আর জোঁক যে কখন তাদের গায়ে বসানো হয় এবং কখন রক্ত শুষে নেয় তা তারা একবারেই অনুভব করতে পারেন না। রোগাীরা জানালেন তারা এই পদ্ধতিতে বেশ উপকার পাচ্ছেন। একজন চিকিৎসা নিয়ে ফিরে যেয়ে তার বন্ধু-বান্ধব এবং আত্নীয়-স্বজনসহ পরিচিত যারা চর্মরোগে ভুগছেন তাদেরকে ডেকে নিয়ে যান ওই হাসপাতালে। ফলে চিকিৎসকরাও বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন।

চিকিৎসক উত্তমকুমার নির্মলকর বলেন, ‘আসলে জোঁকের মুখে এক ধরনের এনজাইম থাকে। তার সাহায্যে কোনও প্রাণীর রক্ত শোষণের সময়ে সংশ্লিষ্ট অংশটি অবশ করে দেয় তারা। তাদের শিকার তাই কিছু টেরই পায় না’ ।

Comments

comments

সর্বশেষ আপডেট



এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সদস্য মণ্ডলী : –

উপদেষ্টা : ডা: রফিকুল ইসলাম বিজলী
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুজাহিদুল ইসলাম নাঈম
সম্পাদক ও প্রকাশক : মাহির শাহরিয়ার শিশির
বার্তা সম্পাদক : সাহিদুল ইসলাম পলাশ ভুইয়া
নির্বাহী সম্পাদক : মনেম শাহরিয়ার শাওন

যোগাযোগ : –

সম্পাদকীয় কার্যালয় : ২৩/৩, তোপখানা রোড,
৪র্থ তালা, (পাক্ষিক অনিয়ম এর পাশে) ঢাকা-১০০০
09602111463, 01911717599, 01611354077
fb.com/bartakantho | Info@Bartakantho.com
প্রকাশনা : সানশাইন ক্রিয়েটিভ মিডিয়া লিমিটেড

Design & Devaloped BY Creation IT BD Limited